শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী নদী হিসেবে বেশ সুপরিচত শীতলক্ষ্যা। জেলার ইতিহাস সৃষ্টিতে অনেকটাই অবদান রয়েছে এ নদীটি। প্রাচ্যের ড্যান্ডি ক্ষ্যাত এ জেলার সাথে শীতলক্ষ্যার সম্পর্ক যেন জন্ম-জন্মান্তরের। সময়ের আবর্তনে সেই নদী দূষনকারীদের ছোঁবলে ধ্বংশ হতে চলেছে শীতলক্ষ্যা নদীটি।
শীতলক্ষ্যা নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছে শত-শত মিল-কারখানা। রয়েছে শিল্প-গার্মেন্টস ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো। ক্ষমতার দাপটে নদী দখল করেই খান্ত হননি তারা। মেতে উঠেছে নদী ধ্বংশের মহাযোগ্যে। যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) থাকার কথা। সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠানে (ইটিপি) থাকার পরেও তা ব্যবহার না করে শীতলক্ষ্যায় অবাধে ছেরে দিচ্ছে দূষিত পানি। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম না বললেই নয়, নীট কনসার্ন, বর্নালী,সোহাগপুর টেক্সাইল মিলস ও আকিজ সিমেন্টসহ কারখানাগুলো প্রতিদিনই তাদের বর্জ্য পদার্থগুলো নদীতে ফেলছে। এতে করে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি পানি বাহিত রোগের কারনে ভুগছে নদী পারের মানুষ।
নদী বাঁচাও আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ শাখার অধিকাংশ নেতাদের অভিযোগ, জেলার একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় শীতলক্ষ্যা নদীকে ড্রেনে পরিনত করেছে। নদীর পানির দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরছে আশপাশে। এতে নদীর পাশে বসবাসরত বাসীন্দাদের নানা রোগে ভুগতে হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছসহ নানা প্রজাতির প্রানী অকালে ঝড়ে যাচ্ছে। এরকরম ভাবে ডাইং ফ্যাক্টরির বর্জ্য পদার্থ নদীতে প্রবেশ করলে এক সময় জেলার ঐতিহ্যবাহী নদীটি আর থাকবে না। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের দাবী ওই নদী দূষনকারী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে শীতলক্ষ্যা নদীকে বাঁচান।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) এ,এফ,এম, এহতেশামূল হক বলেন, দূর্গন্ধের কারনে নদীর পাশ দিয়ে হাটা চলাও করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন স্থাণীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে যুক্ত করা। পাশাপাশি সিটি গভার্নেন্স শক্তিশালী করতে হবে। তাহলে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।
নারায়ণগঞ্জ’র জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া জানান, শীতলক্ষ্যা নদীকে বাঁচাতে আমরা কাজ করে চলেছি। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা হয়েছে। নদীটিকে বাঁচাতে নেয়া হবে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার জানান, নারায়ণগঞ্জে তরল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৫টিতে ইনফ্লুয়েন্স ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) ছিল না। বর্তমানে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানই ইটিপির আওতায় এসেছে। পাশাপাশি আমরা ২৪ ঘন্টা অনলাইন মনিটরিং এর ব্যবস্থাও চালু করার চেষ্টা করছি। এছাড়া জিরো ডিসচার্জ করার লক্ষ্যে অর্থাৎ যে বর্জ্যটা বের হবে সেটি পরিশোধন করে পানিটি পূনরায় ব্যবহার করবে। এতে করে বর্জ্য পদার্থ জনিত পানি আর বাইরে ফেলার প্রয়োজন পরবে না। তখন অটোমেটিক্যালি নদী দূষন বন্ধ হবে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।